Uncategorized

মেনস্ট্রুয়াল কাপ কী? মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার সম্পর্কে যা যা জানা দরকার।

Menstrual Cup

বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল ও ব্যবহারকারীদের মতামত অনুযায়ী মেনস্ট্রুয়াল কাপ স্যানিটারি ন্যাপকিন থেকে বেশি পরিবেশবান্ধব। মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে কোন ধরনের চুলকানি বা অন্য কোন সমস্যা হয় বা যেটা কিনা সাধারণ প্যাডে থাকে।

একটানা ১০-১২ ঘন্টা ব্যবহার করা যায় এবং বার বার পাল্টানোর ঝামেলা নেই। সাইকেল চালানো থেকে শুরু করে সাঁতাড় কাটা সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার যোগ্য। তাই এখনকার বেশিরভাগ নারীদেরই প্রথম পছন্দ মেনস্ট্রুয়াল কাপ।

মাসিক কাপ কী

মেনস্ট্রুয়াল বা মাসিক কাপ কী?

মেনস্ট্রুয়াল কাপ রাবার বা মেডিক্যাল গ্রেড সিলিকনের তৈরী ফানেল আকৃতির  পুনরায় ব্যবহার যোগ্য একধরনের মেয়েলি স্বাস্থ্যকর পণ্য, যেটা কিনা স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি আকৃতিতে ছোট এবং নমনীয়। তাই মাসিক চলাকালীন সময়ে যে রক্ত বের হয় তা সংগ্রহের জন্য সহজেই এটা যোনীপথে প্রবেশ করানো যায়।

কাপগুলো অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় বেশি রক্ত ধারন করতে পারে এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনের মত বারবার পালটানোর ঝামেলা নেই। যার কারনে অনেক মহিলারাই এটাকে ট্যাম্পনের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্যক্তি ও রক্তের প্রবাহ ভেদে এটি একটানা সর্বোচ্চ ১২ ঘন্টা ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে আরও জানতে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

যে কারনে মেনস্ট্রুয়াল কাপ স্যানিটারি ন্যাপকিন থেকে ভাল

Menstrual Cup

বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল ও ব্যবহারকারীদের মতামত অনুযায়ী মেনস্ট্রুয়াল কাপ স্যানিটারি ন্যাপকিন থেকে বেশি পরিবেশবান্ধব। মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করলে কোন ধরনের চুলকানি বা অন্য কোন সমস্যা হয় বা যেটা কিনা সাধারণ প্যাডে থাকে। একটানা ১০-১২ ঘন্টা ব্যবহার করা যায় এবং বার বার পাল্টানোর ঝামেলা নেই। সাইকেল চালানো থেকে শুরু করে সাঁতাড় কাটা সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার যোগ্য। তাই এখনকার বেশিরভাগ নারীদেরই প্রথম পছন্দ মেনস্ট্রুয়াল কাপ।

কীভাবে মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করবেন

মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যদিও আপনি অনলাইন বা বিভিন্ন স্টোরগুলোতে যে কোন ব্র‍্যান্ডের কাপই পাবেন। প্রথমেই আপনাকে কাপের সাইজ নির্ধারণ করতে হবে, বাজারে ছোট বড় সব সাইজের কাপই পাওয়া যায়।

আপনার জন্য সঠিক মাপের মেনস্ট্রুয়াল কাপ বাছাই করার জন্য আপনার এবং আপনার ডাক্তারের কিছু বিষয়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমনঃ

  • বয়স
  • জরায়ুর দৈর্ঘ্য
  • ব্লাডের প্রবাহ
  • কাপের ধারণ ক্ষমতা

ছোট কাপগুলো সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সী বা যাদের নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা হয় নি তাদের দেয়া হয়। অপরদিকে যাদের বয়স ৩০ বছরের বেশি বা যাদের নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে বড় কাপগুলোর জন্য বলা হয়।

মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের আগে যা করবেন

প্রথম বার ব্যবহারের সময় বেশিরভাগ মহিলারাই নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। স্পর্শকাতর স্থান হওয়ায় প্রথম দিকে মানিয়ে নিতে কিছুটা কষ্ট হলেও, কিছুদিনের ভেতরেই আপনি এর সাথে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে পরবেন। কাপ ব্যবহারের পূর্বে অবশ্য পিচ্ছিল পদার্থ ব্যবহার করবেন যেমনঃ ভেসলিন। এতে করে সহজেই কাপটি ভিতরে প্রবেশ করাতে পারবেন।

যেভাবে মেনস্ট্রুয়াল কাপ ভিতরে প্রবেশ করাবেন

ট্যাম্পন প্রবেশ করার চেয়ে কাপ প্রবেশ করানো আরো সহজ। আপনাকে যেটা করতে হবে তা হল নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা।

১. প্রথমেই সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ভালভাবে ধুয়ে নিন।

২. কাপের রিমে পিচ্ছিল পদার্থ বা পানি লাগিয়ে নিন।

৩. কাপের খোলা মুখটি উপরে রেখে নীচের অংশ শক্ত করে ধরে সার্ভিক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে। ছাতার মতো খুলে গিয়ে কাপটি আটকে যাবে যৌনাঙ্গে। এ বার ঘুরিয়ে সেটির মুখ আটকাতে হবে, যাতে ঋতুস্রাবের রক্ত বাইরে না বেরিয়ে আসে।

সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারলে হাটতে, চলতে, লাফাতে, উঠাবসা করতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এর পরেও যদি কাপ প্রতিস্থাপন করতে কোন সমস্যা সম্মুখীন হন অবশ্যই একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞর সাথে যোগাযোগ করুন।

একবার ভাল করে প্রবেশ করাতে পারলে টানা ১২ ঘন্টা পর্যন্ত আপনি এটা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিবার ব্যবহারের আগে গরম পানি দিয়ে ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। সঙ্গমের সময় এই কাপ ব্যবহার করা যাবে না।

মেনস্ট্রুয়াল কাপ বের করার নিয়ম

কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই কাপ খুলে ফেলতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন –

১. প্রথমেই হাত ভাল করে ধুয়ে নিন।

২. আপনার যোনিতে আপনার তর্জনী এবং বৃদ্ধা আঙুল রাখুন।কাপের উপরের অংশে ধরে আলতো করে টেনে নিয়ে আসুন।

৩. কাপের বেসটি চিমটি দিয়ে ধরুন এবং নিচে টেনে আনুন।

৪. বের করার পর কাপটি পরিষ্কার করে ফেলুন।

যেহেতু কাপটি পুনরায় ব্যবহার যোগ্য, প্রতিবার ব্যবহারের আগে স্টেরিলাইজ করে নিন। দিনে কমপক্ষে ২ বার কাপ খালি করুন। এভাবে ব্যবহার করলে একটি কাপ কমপক্ষে ৬-১০ বছর ব্যবহার করা যাবে।

মেনস্ট্রুয়াল কাপের সুবিধা

  • সাশ্রয়ী মূল্য
  • প্যাড ও ট্যাম্পন থেকে বেশি তরল ধারন করতে পারে।
  • ট্যাম্পন হতে বেশি নিরাপদ।
  • পরিবেশবান্ধব।
  • অনেকদিন ব্যবহার করা যায়।
  • IUD দিয়ে ব্যবহার করা যায়।
  • কিছু কিছু ব্র‍্যান্ডের কাপ সেক্সের সময় কোন বাধা সৃষ্টি করে না।

মেনস্ট্রুয়াল কাপের অসুবিধা

সুবিধাগুলোর সাথে তুলনা করলে এর অসুবিধা নেই বললেই চলে।

  • ভিতরে প্রবেশ ও বের করা কিছুটা কঠিন কাজ।
  • সঠিক সাইজ নির্ধারণ করা জটিল।
  • এলার্জি হতে পারে
  • এবং যোনিতে জ্বালা পোড়া করতে পারে যদি ভাল করে পরিষ্কার করা না হয়।

সারা বছর প্যাড বা অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর পেছনে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তার অর্ধেক টাকা খরচ করে আপনি ৬-১০ বছরের জন্য নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। এই লেখা পরে আপনার কাছে যদি মনে হয় এমন কিছু একটাই আপনি মনে মনে খুঁজছিলেন, যেটা ব্যবহার করলে বার-বার প্যাড পরিবর্তন অথবা অন্যান্য ঝামেলা গুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

তাহলে আর দেরি কেন? আপনিও শুরু করতে পারেন মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহার। আর আপনাদের কথা চিন্তা করে আমরা দিচ্ছি সবচেয়ে ভাল কোয়ালিটির মেনস্ট্রুয়াল কাপ। বেস্ট প্রাইসে সবচেয়ে ভাল কোয়ালিটির পন্য পেতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *